ত্রিপুরার চুরু জেলা থেকে আবারও দুঃখজনক এবং হৃদয় বিদারক ঘটনা সামনে এসেছে।একটি নবজাতক নিষ্পাপ মেয়েকে বৃষ্টির দিনে কাঁটাযুক্ত ঝোপের মধ্যে ফেলে রেখে চলে যায় পরিবারের লোকজন।ভাগ্যক্রমে কিছু গ্রামবাসী ওই নবজাতক নিষ্পাপ শিশুটির কান্না শুনতে পায় এবং তারা সেখানে পৌঁছে নবজাতক শিশুটিকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করে।চিকিৎসকরা সমস্ত চেক করে বলেন ,অবস্থা আশঙ্কাজনক।যেখানে সরকার বারবার প্রচার করছে বেটি বাঁচাও,বেটি পড়াও সেখানে আবারও এক মর্মান্তিক ঘটনা।
তথ্য অনুযায়ী,শনিবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে প্রকাশ ও রাজু নামে দুই ব্যাক্তি মাঠে যাচ্ছিলেন।এ সময় কাঁটাঝোপ থেকে একটি শিশুর কান্নার আওয়াজ শুনতে পেয়ে সেখান গিয়ে পৌঁছালে তারা হতবাক হয়ে যায়।কাঁটা ঝোপের মধ্যে একটি নবজাতক মেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল এবং সে কাঁদছিল।সারা শরীরে কাঁটা বিঁধে ছিল যার ফলে রক্তক্ষরণ ও হচ্ছিল।আশেপাশের লোকজনদের ডেকে পাঠানো হয়।সেখান থেকে মেয়েটিকে তুলে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়।
তার ওই নবজাতক শিশুটির শরীর থেকে সমস্ত কাঁটা বের করে সদর থানায় খবর দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।নবজাতকের এই অবস্থা দেখে গ্রামবাসীরা অনুমান করেন,শনিবারই ভোর ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে শিশুটির জন্ম হয়।সারা শরীরে তখনও লালা রস ছিল।খবর পেয়ে থানার পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে আহত নবজাত শিশুকে দেখে আসেন।হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডক্টর চন্দ্রভান নবজাত শিশুকে পুরোপরি পরিস্কার করে চিকিৎসা শুরু করেন।তবে শিশুকন্যাটি এখনও আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,যখন ঝোপের মধ্যে মেয়েটিকে ফেলে দেওয়া হয় তখন মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল।বৃষ্টিতে ভিজে মেয়েটির স্বাস্থ্যের আরও বেশি অবনতি হয়।পুলিশরা জানান,৭ এপ্রিল মিতাসার গ্রামেও একই ধরনের ঘটনা সামনে এসেছে।সেখানে মাটির মধ্যে একটি নবজাতক শিশুকে পাওয়া যায়।সেই মামলাটির দ্রুত ব্যাবস্থা নিয়ে আসামিদের গ্রেফতার করে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়।এক্ষেত্রেও মেয়েটিকে কারা ঝোপে ফেলে পালিয়ে গেছে তা শিগগিরই বের করে গ্রেফতার করা হবে।
Tags:
আইন-কানুন