মেয়েকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বাবা ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এ মামলার বিষয়ে বলা হচ্ছে, নাবালিকাকে হত্যার পর লাশকে কবর দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি বিজয়পুর থানা এলাকার নাভকা টোলার। নিহত মেয়েটি রেণু কুমারী বলে জানা গেছে, সে রামায়ণ রাজভারের ১৬ বছরের মেয়ে ছিল। বুধবার সন্ধ্যায় ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে পুলিশ লাশ কবর থেকে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বৃহস্পতিবার সকালে সদর হাসপাতালে পাঠায়। এখানে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত বাবা ও ভাইসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা পলাতক রয়েছে।
স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানায়, রাতের আঁধারে রামায়ণ রাজভর তার ছেলেকে নিয়ে মেয়ের লাশ গ্রামের পাশের ভাগদা ঘাটে নিয়ে যায়, সেখানে কবর খুঁড়ে কিশোরীকে মাটি চাপা দেওয়া হয়। গ্রামের লোকজন জানান, মেয়ে অসুস্থ ছিল। গ্রামবাসীরা বিষয়টি পুলিশকে জানায়। এরপর পুলিশ তদন্ত শেষে ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে কবর থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
পুলিশের তদন্তে উঠে আসে রেনু কুমারী ছাত্রী। তিনি পড়াশোনায় মেধাবী ছিলেন এবং এগিয়ে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তার বাবা এক বছর আগে তার পড়াশোনা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। রেণু কুমারী বাড়িতে থাকতেন এবং সব কাজ করতেন। তিনি তার পরিবারের কাছে তার বাবাকে পড়াশোনার জন্য রাজি করাতে অনুরোধ করেছিলেন।
পুলিশ বাড়িতে পৌঁছে নিহতের বোনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায় যে তার বড় বোন অসুস্থ ছিল, যার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। মেয়েটি জানায়, তার বাবা ও ভাই দু’জনেই ওষুধ আনতে বলে বাড়ি থেকে বের হলেও এখনো ফেরেননি।
পুলিশ বলেছে, বাবা-ছেলেকে গ্রেপ্তারের পর রেণু কুমারীর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন হবে। পুরো বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করছে পুলিশ। পাশাপাশি পলাতক আসামিদের প্রতিবেশী ও স্বজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।